Menu

News Details

Image

Press Release (Discussion on Labour Day)

Ref: hrss/2026/ka/17                                                    তারিখঃ ৩০.০৪.২০২৬ ইং                                                                    

প্রেস রিলিজ

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে HRSS-এর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে Human Rights Support Society (HRSS) আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় দেশের শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা, অধিকার সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাত ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী নানা ধরনের অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। তারা উল্লেখ করেন, বিদ্যমান শ্রম আইন থাকা সত্ত্বেও এর যথাযথ বাস্তবায়নের অভাবে শ্রমিকরা কাঙ্ক্ষিত সুরক্ষা পাচ্ছেন না।

বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকের অধিকার মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত এবং এটি সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। এ অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকার, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন-

মাহমুদুর রহমান মান্না, সভাপতি, নাগরিক ঐক্য

মোঃ নূর খান, মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক সদস্য, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)

এড. আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন

শাহ মো:আবু জাফর, সভাপতি, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন

আব্দুল কাদের হাওলাদার, সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিকজোট

চৌধুরী আশিকুল আলম, সভাপতি, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ

রাজেকুজ্জামান রতন, সভাপতি, সমাজতান্ত্রিক  শ্রমিক ফ্রন্ট

বাদল খান, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোট

শাকিল আখতার চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন

নুরুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় শ্রমিক জোট

ফয়েজ হোসেন, যুগ্ন সমন্বয়ক, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ

রাবিতা ইসলাম, উপপরিচালক, কর্মজীবি নারী

HRSS এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন এবং শুরুতে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের উপর একটি লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যা নিচে তুরে ধরা হলো-

 

বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি: চ্যালেঞ্জ, অগ্রগতি ও করণীয়

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)

১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য দাবির স্মারক এই দিন। বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও উন্নয়নের পেছনে শ্রমিক শ্রেণির অবদান অপরিসীম। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, নির্মাণ খাত, পরিবহন, কৃষি, গৃহকর্ম এবং প্রবাসী শ্রমবাজারে শ্রমিকদের শ্রমই দেশের অগ্রগতির মূল শক্তি। তাই শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা কেবল আইনি দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্বও।

শ্রমিক অধিকারের বর্তমান বাস্তবতা

বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিকদের জীবনমান সেই অনুপাতে উন্নত হয়নি। এখনও বহু শ্রমিক কম মজুরি, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, চাকরির অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশ, ট্রেড ইউনিয়ন বাধা, নারী শ্রমিকদের বৈষম্য এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন।

তৈরি পোশাক খাত দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলেও বহু শ্রমিক এখনও মানবিক জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি পান না। অন্যদিকে নির্মাণ খাতে দুর্ঘটনা, পরিবহন খাতে ঝুঁকি, গৃহকর্মীদের নির্যাতন এবং প্রবাসী শ্রমিকদের শোষণও উদ্বেগজনক। রানা প্লাজা ধসের মতো মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন কখনও টেকসই হয় না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরিণত হয় একটি ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার শ্রমিকরাও এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। কারণ তারাও অসমতা, দমন ও অপশাসনের শিকার ছিলেন বছরের পর বছর ধরে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এই আন্দোলন দমনে ব্যাপক বলপ্রয়োগ করে — প্রায় ১৪০০ মৃত্যু, ৩০,০০০ বেশি আহত, হাজার হাজার গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে। গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মানুষ শ্রমজীবী।

৫ আগস্ট ২০২৪, শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন হয়। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের আলোয় শ্রমিকের জীবন কতটুকু বদলেছে?

বাস্তবতা হলো, আন্দোলনের পরপরই প্রায় ১৪০টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, আনুমানিক ১,৩০,০০০ পোশাকশ্রমিক যাদের বেশিরভাগই নারী, হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়েন। অনেক কারখানা মালিক যারা বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তারা শ্রমিকদের বেতন না দিয়েই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

তথ্য-উপাত্তে শ্রমিকদের পরিস্থিতি পর্যালোচনা: ২০২৫ ও ২০২৬

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে নিচে বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো।

সারণি ১: ২০২৫ সালে শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি (মাসওয়ারি)

শ্রেণি

জানু-মার্চ

এপ্রি-জুন

জুলা-সেপ্ট

অক্টো-ডিস

মোট

ঘটনা (Incidents)

৮৬

২৬

৬৫

৮৩

২৬০

আহত (Injured)

২৯৪

৩২৬

১০৮

১৯৩

১০২১

নিহত (Killed)

৪৫

১৪

১৫

২২

৯৬

কর্মক্ষেত্রে মৃত্যু (Death)

১৯

২৪

৬১

৬৪

১৬৮

 

 

 

 

সারণি ২: ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাস (জানু-মার্চ)

শ্রেণি

জানুয়ারি

ফেব্রুয়ারি

মার্চ

মোট

ঘটনা (Incidents)

২৯

৩৩

৭৭

১৩৯

আহত (Injured)

২৭৪

১২৩

১৭৬

৫৭৩

নিহত (Killed)

১৯

৩০

কর্মক্ষেত্রে মৃত্যু (Death)

১৪

২০

৩৮

৭২

তথ্য-বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে সারাবছরে মোট ২৬০টি ঘটনায় ৯৬ জন নিহত, ১,০২১ জন আহত এবং ১৬৮ জন কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করেছেন। উদ্বেগজনকভাবে, ২০২৬ সালের মাত্র প্রথম তিন মাসেই ঘটনার সংখ্যা ১৩৯, নিহত ৩০ এবং আহত ৫৭৩ — যা একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো মার্চ ২০২৬ মাসে হঠাৎ করে ঘটনা ও হতাহতের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

ইতিবাচক পরিবর্তন ও সংস্কারের আশা

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রম আইন সংশোধন, মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ইউনিয়ন গঠন সহজীকরণ এবং গৃহকর্মীদের আইনি স্বীকৃতি—এসব পদক্ষেপ আশাব্যঞ্জক। তবে বাস্তবতা হলো, আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার যথাযথ প্রয়োগ এখনও দুর্বল। শ্রম আদালতে দীর্ঘসূত্রতা, অভিযোগ করলে চাকরি হারানোর ভয়, ক্ষতিপূরণ না পাওয়া এবং পরিদর্শন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা শ্রমিকদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করছে।

প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

১. নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাব: কারখানা, নির্মাণ সাইট ও বিভিন্ন কর্মস্থলে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে।

২. ন্যায্য মজুরির সংকট: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির তুলনায় বহু শ্রমিকের আয় অপর্যাপ্ত।

৩. ট্রেড ইউনিয়ন সীমাবদ্ধতা: অনেক শ্রমিক সংগঠন গঠনে বাধা বা চাপের মুখে পড়েন।

৪. নারী শ্রমিকদের সমস্যা: বৈষম্য, মাতৃত্ব সুবিধার ঘাটতি ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

৫. গৃহকর্মী ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষাহীনতা: অনেকেই শ্রম আইনের বাস্তব সুবিধা পান না।

৬. প্রবাসী শ্রমিকদের শোষণ: দালালচক্র, অতিরিক্ত ফি, চুক্তি লঙ্ঘন ও নির্যাতন অব্যাহত।

সরকারের কাছে সুপারিশ

১. শ্রম আইন কঠোর বাস্তবায়ন: শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. শ্রম পরিদর্শন জোরদার: শ্রম পরিদর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি, ডিজিটাল মনিটরিং ও নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন চালু করা।

৩. ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ: দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়মিত মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে।

৪. শ্রম আদালত সংস্কার: দ্রুত বিচার, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা এবং সহজ আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. গৃহকর্মী ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক সুরক্ষা: গৃহকর্মী, কৃষিশ্রমিক, চা শ্রমিক, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের জন্য আলাদা সুরক্ষা নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

৬. প্রবাসী শ্রমিক সুরক্ষা: রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহিতা, কম খরচে অভিবাসন, বিদেশে আইনি সহায়তা বাড়াতে হবে।

৭. নারী শ্রমিকবান্ধব নীতি: ডে-কেয়ার, মাতৃত্ব সুবিধা, নিরাপদ যাতায়াত এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি বাধ্যতামূলক করতে হবে।

মালিকপক্ষের কাছে সুপারিশ

১. শ্রমিককে ব্যয় নয়, সম্পদ হিসেবে দেখা: শ্রমিক সন্তুষ্টি ও দক্ষতা উৎপাদনশীলতা বাড়ায়—এটি উপলব্ধি করতে হবে।

২. সময়মতো বেতন ও বোনাস প্রদান: বেতন বকেয়া রাখা বন্ধ করতে হবে এবং উৎসব বোনাস সময়মতো দিতে হবে।

৩. নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা: ফায়ার সেফটি, ভবন নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও জরুরি প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা।

৪. ট্রেড ইউনিয়নের প্রতি সম্মান: শ্রমিক সংগঠনকে প্রতিপক্ষ নয়, আলোচনার অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে।

৫. নারী শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা: হয়রানিমুক্ত পরিবেশ, মাতৃত্ব সুবিধা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

৬. দক্ষতা উন্নয়ন বিনিয়োগ: শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিলে প্রতিষ্ঠানও লাভবান হবে—এমন উদ্যোগ নিতে হবে।

৭. সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন: শ্রমিক কল্যাণ তহবিল, চিকিৎসা সহায়তা ও আবাসন সুবিধা চালু করা যেতে পারে।

সম্মিলিত করণীয়

সরকার, মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ জোরদার করতে হবে। সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই টেকসই পথ।

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার প্রকৃত কারিগর শ্রমিক শ্রেণি। তাদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—শ্রমিকের ঘাম যেন শোষণের নয়, সম্মানের প্রতীক হয়। শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, শিল্প বাঁচলে দেশ এগোবে।

অনুষ্ঠানের শেষে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের চেতনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ধন্যবাদসহ

ইজাজুল ইসলাম

নির্বাহী পরিচালক

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)